লোড হচ্ছে

অপেক্ষা করুন...

PEMIS
Primary Education Management Information System

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৮-২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) যার মূল উদ্দেশ্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত সকল শিশুর বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সু্যোগ সৃষ্টি এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমতাভিত্তিক মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদান। এ উদ্দেশ্যে পিইডিপি-৪ প্রকল্পে একাধিক লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে যার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, যার মাধ্যমে গুনগতভাবে স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রথমেই প্রয়োজন মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর থেকে শুরু করে মাঠপর্যায় পর্যন্ত সকল সদস্যদের মধ্যে সুষ্ঠু যোগাযোগ ও নির্ভুল তথ্যের আদান-প্রদান। দেশের শিক্ষা খাতের সর্ববৃহৎ এই খাতে এত বিপুল পরিমাণ অংশগ্রহণকারী রয়েছে যে এই যোগাযোগ ও তথ্য ব্যবস্থাপনার দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সিস্টেমের বিকল্প নেই। এই ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের বাস্তবায়িত রূপই হলো Primary Education Management Information System বা PEMIS.

দেশের সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে পিইডিপি-৪ কর্মসূচির আওতায় ইউনিসেফ এবং এডিবির অর্থায়নে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালনায় ২০২০ সালের জুলাই মাসে PEMIS বাস্তবায়ন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের অন্যতম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন ইনোভেটরস লিমিটেড (ডিএসআই) প্রকল্পটির সাথে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়। মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সারা দেশব্যাপী চলমান এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞকে একটি প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসার জন্যে প্রথমেই প্রয়োজন একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা যার মধ্যে থাকবে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত চলমান বিভিন্ন কর্মপ্রক্রিয়াকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা, প্রক্রিয়াগুলোকে সার্বিকভাবে আরো সুসংহত করা, ডেটা পয়েন্টগুলো যথাযথভাবে নির্ধারণ, এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ইউজারদের এবং তাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, আইএমডি, এবং জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসে ব্যাপক পর্যালোচনার মাধ্যমে PEMIS সফটওয়্যারের প্রাথমিক রূপরেখা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক রূপরেখা নির্ধারণের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের এপ্রিলে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডেভেলপমেন্ট কাজের সূচনা হয়। পরবর্তীতে সফটওয়্যারের মূল মডিউলগুলোর ডেভেলপমেন্ট, টেস্টিং, বাগ ফিক্সিং এবং মাসব্যাপী পাইলটিং এর পরে চূড়ান্ত সফটওয়্যারটি ২০২২ সালের মার্চ মাসে সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

PEMIS সফটওয়্যারটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি মাইলফলক অর্জন যার মাধ্যমে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে থাকা এক লক্ষ তিরিশ হাজার স্কুল, সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক, এবং ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর তথ্য সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই স্কুল ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা ছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের বার্ষিক শুমারি এবং বার্ষিক বই বিতরণ কার্যক্রম এই সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। PEMIS অ্যাপ্লিকেশনটি ডিপিই - এর সাংগঠনিক কাঠামো অনুসারে নির্মিত হয়েছে যেখানে বিদ্যালয়গুলো অধিদপ্তর থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা, এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত যথাযথ প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী সুবিন্যস্ত রয়েছে। প্রশাসনিক এলাকা অনুযায়ী সম্পর্কিত বিভিন্ন লেভেলের ইউজার ও সংশ্লিষ্ট রোলসমূহও সিস্টেমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে যাতে করে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম এ সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়। PEMIS অ্যাপ্লিকেশনটিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়, স্কুল ও স্কুলের অবকাঠামো, এবং বার্ষিক শুমারি থেকে আরম্ভ করে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য একটি একীভূত প্ল্যাটফর্মে থাকায় এসকল তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন রিপোর্ট খুব সহজেই প্রস্তুত করা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের সমন্বয়ে মডিউভিত্তিক একাধিক ফর্ম, ফর্মের ডেটাসম্পর্কিত একাধিক ভ্যালিডেশন এবং সাংগঠনিক কাঠামোভিত্তিক বহুস্তরবিশিষ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিস্টেমে ভুল ডেটা বা ডুপ্লিকেট ডেটা এন্ট্রির সম্ভাবনা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে।

বিভিন্ন মডিউলের তথ্য যথাযথভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড অনুযায়ী বিভিন্ন রিপোর্ট প্রস্তুত করতে সক্ষম। যে রিপোর্টগুলো ড্যাশবোর্ড-এ গ্রাফ ও চার্ট আকারে দৃশ্যমান করা হয়েছে। এই ড্যাশবোর্ডগুলোর মাধ্যমে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন দাতাসংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকগণ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী করনীয়, সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থায়ন এবং পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রিপোর্ট তৈরিকরণ এখন অধিক কার্যকারীতা ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও সাধারন জনসাধারণের জন্যেও এই ড্যাশবোর্ডের একটি বড় অংশ উন্মুক্ত করা রয়েছে যার মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি সম্বন্ধে যে কেউ একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারেন। দেশের সকল শিশুর জন্যে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয় বহির্ভূত ঝরেপড়া শিশুদের শিক্ষার বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি, দেশব্যাপী সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, এবং সর্বোপরি প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার সংক্রান্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা এবং তার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে PEMIS সফটওয়্যারটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।